
ঈদগাঁও, নিজস্ব প্রতিনিধি
সংসারে শত অভাব-অনটন, প্রতিদিনের পেটের টানে হাড়ভাঙা খাটুনি, তবুও লোভের কদর্যতা এক ফোঁটাও ছুঁতে পারেনি তাঁকে। বলছি খেটে খাওয়া এক অটোরিকশাচালক আজমের কথা। নিজের আর্থিক দুরবস্থা আর চরম অসচ্ছলতা যাঁকে দমাতে পারেনি, সততার মূর্ত প্রতীক হয়ে তিনি আজ স্থাপন করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।ঘটনা তিন দিন আগের। পেটের দায়ে অটো রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিলেন আজম। সারাদিন রিকশা চালিয়ে ঘরে ফেরার পর তাঁর নজরে আসে একটি যাত্রীর ফেলে যাওয়া মূল্যবান জিনিস কিছু স্বর্ণালংকার। যে কেউ হলে হয়তো এই আকস্মিক প্রাপ্তিতে লোভে পড়ে যেতেন, কিন্তু আজমের মন সায় দেয়নি পরের হক নিজের করে নিতে।এরপর থেকে শুরু হয় প্রকৃত মালিককে খোঁজার এক অদম্য লড়াই। একটানা তিন দিন ধরে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে মালিকের সন্ধান চালিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোনভাবেই মালিকের দেখা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি ছুটে এসেছেন গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়ে। আজমের একমাত্র আকুতি,স্বর্ণালংকারগুলো যেন অক্ষত অবস্থায় তাঁর প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিতে পারেন। অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরা হাত দুটো হয়তো মলিন, কিন্তু তাঁর মনের সচ্ছতা যে কোন রত্ন ভাণ্ডারের চেয়েও দামি, তা আজ প্রমাণিত। সাধারণ মানুষের মনে দোলা দেওয়া আজমের এই সততা ও মানবিকতার গল্প ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার কুড়িয়েছে।আজমের এখন একটাই প্রত্যাশা, এই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ুক চারদিকে। খবরটি পৌঁছাক সেই অভাগা মালিকের কানে, যিনি হয়তো হারিয়ে মূল্যবান সম্পদ হারানোর বেদনায় বিলাপ করছেন। সংবাদটি জানাজানি হলে খুব দ্রুতই স্বর্ণের প্রকৃত মালিকের সন্ধান মিলবে এবং পরম যত্নে সেই মূল্যবান জিনিসগুলো তিনি নিরাপদে তুলে দিতে পারবেন মালিকের হাতে।
